ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ , ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানিক পশারীর কবর খোঁড়ার ছবি ভাইরাল, দাফন নিয়ে যা ঘটেছে

অনলাইন ডেস্ক
২ ঘন্টা আগে
মানিক পশারীর কবর খোঁড়ার ছবি ভাইরাল, দাফন নিয়ে যা ঘটেছে
পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ঘিরে তৈরি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার এই বাদীর কবর খোঁড়ার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিতে তিন নারীকে কবর খুঁড়তে দেখা যাওয়ার পর দাবি করা হয়, তারা একাই কবর খুঁড়েছেন। তবে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গ্রাম পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কবর খোঁড়ার সময় সেখানে আরও লোকজন ছিলেন।

স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মতিউর রহমান জানান, শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে মানিক পশারীর বাড়ির কাছে প্রথমে তাঁর কবর খোঁড়া হয়েছিল। কিন্তু সন্ধ্যার পর একদল লোক কবরটি মাটি দিয়ে ভরাট করে দেয়। পরে রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে আবার কবর খোঁড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

মতিউর রহমান বলেন, কবর খোঁড়ার সরঞ্জাম আনতে তিনি মানিক পশারীর এক বোনের বাড়িতে যান। ওই বোনসহ আরও দুই নারী সেখানে আসেন। পরে তিনি কবর খোঁড়ার জন্য লোক খুঁজতে গেলে নারীরা মাটি সরানোর কাজ শুরু করেন। এ সময়ের ছবিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর দাবি, তিনি ও স্থানীয় আরেক ব্যক্তি মিলে কবর খুঁড়েছেন, আর নারীরা তাঁদের সহযোগিতা করেছেন।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কবর খোঁড়ার সময় সেখানে দুজন পুরুষও উপস্থিত ছিলেন। ফলে তিন নারী একাই কবর খুঁড়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে দাবি ছড়িয়েছে, তা সঠিক নয় বলে জানান তিনি।

মতিউর রহমান আরও বলেন, দাফনের সময় পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তিনজন গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় দুই ব্যক্তির সহযোগিতায় দাফন সম্পন্ন হয়। ওই সময় আশপাশে কোনো নারীকে দেখেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

মানিক পশারীর বোন হেনা পশারী জানান, প্রথমবার কবর খোঁড়ার সময় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় অন্য লোকজনও উপস্থিত ছিলেন। তবে সন্ধ্যার পর কবর ভরাট এবং হুমকির ঘটনার পর অনেকে ভয়ে সেখান থেকে চলে যান।

তিনি বলেন, মানিক পশারীর ছোট মেয়ে ও তাঁরা দুই বোন মিলে কবর খোঁড়ার কাজ করেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে আরও দুজন পুরুষ ছিলেন। পরে রাতে প্রশাসনের লোকজন এসে তাঁর ভাইকে দাফন করেন।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, কবর ভরাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা জামায়াতের নেতারা। পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন বলে জানান। তবে দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়েও স্থানীয় কয়েকজনের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাকের মতো একাধিক মুক্তিযোদ্ধাও তাঁকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ বলে দাবি করেছেন।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেনের অভিযোগ, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধা করা হয়েছিল। তিনি সাঈদীকে রাজাকার হিসেবে দেখার বিরোধিতা করে বলেন, ১৯৭১ সালে মানুষ তাঁকে চিনত না এবং তিনি পিরোজপুরেও ছিলেন না। তাঁর ভাষ্য, সাঈদী একজন ভালো বয়ানকারী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী বক্তা ছিলেন।

আব্দুস সালাম বাতেন আরও বলেন, মানিক পশারীকে কেন্দ্র করে সাঈদীর অনুসারীরা মব সৃষ্টি করেছিলেন এবং তাঁকে কোথাও দাফন করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছিলেন। মানিক পশারী সরকারি গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় পুলিশ প্রশাসন তাঁকে গার্ড অব অনার দিতে বাধ্য হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সাঈদীর অনুসারীরা এ কারণে গার্ড অব অনার দেওয়ার বিরোধিতা করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আরেক মুক্তিযোদ্ধা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাঈদীর বিরুদ্ধে করা একটি মামলায় চাপের মুখে বা অন্য কোনো কারণে মানিক পশারী মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছিলেন বলে তাঁর ধারণা। এরপর তাঁকে মুক্তিযোদ্ধা করা হলেও পরবর্তী সময়ে আর যাচাই-বাছাই হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

ওই মুক্তিযোদ্ধার ভাষ্য, সরকারি গেজেটভুক্ত হওয়ায় মৃত্যুর পর মানিক পশারীকে নিয়ম অনুযায়ী গার্ড অব অনার দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জামায়াত এতে বাধা দেয় এবং বাড়িতে কবর খোঁড়ার পর তা ভরাট করে দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।


কমেন্ট বক্স